বুধবার, ১ জুলাই, ২০২০

সাবজেক্ট রিভিউঃ ডিপ্লোমা ইন ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং


ডিপ্লোমা ইন ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং: উচ্চ শিক্ষা, ক্যারিয়ার, দায়িত্ব-

ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার :
 বর্তমানে আমাদের দেশে শিক্ষিত বেকারদের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। কলেজ ভার্সিটি থেকে উচ্চ শিক্ষা নিয়ে অনেকেই বেকার বসে আছেন। গতানুগতিক পড়াশুনার বাইরে যারা চান গ্রাজুয়েশনের পর দ্রুত কর্মজীবনে প্রবেশ করতে তাদের জন্য ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং খুবই আকর্ষনীয় একটি প্লাটফর্ম। আমাদের মত শিল্পায়ননির্ভর দেশে কারিগরি ক্ষেত্রে ইঞ্জিনিয়ারদের কর্মসংস্থানের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। S.S.C পরীক্ষার পর পরই বিভিন্ন সরকারি এবং বেসরকারি পলিটেকনিকে ডিপ্লোমাতে ভর্তির সুযোগ রয়েছে।

🌼একজন ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার কর্মক্ষেত্রে কি কি কাজ করেন ?
ইলেকট্রিক্যাল  ইঞ্জিনিয়ারিং হল ইঞ্জিনিয়ারিং এর এমন একটি ক্ষেত্র যেখানে সাধারণত ইলেক্ট্রিসিটি, ইলেক্ট্রনিক্স ও ইলেক্ট্রম্যাগনেটিজমের বিদ্যা এবং প্রয়োগ নিয়ে দক্ষতা অর্জন করা হয়।
• একজন ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি এবং কন্ট্রোল সিস্টেমের নকশা, উন্নয়ন এবং রক্ষণাবেক্ষণ করেন। তারা শুধুমাত্র মানের উপরেই ফোকাস করেন না, পণ্য এবং সিস্টেম টেকসই কিনা তাও নিশ্চিত করেন।
• একজন ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার অফিস, ল্যাবস, এমনকি শিল্পকারখানাগুলোতে বৈদ্যুতিক পাওয়ার সিস্টেম থেকে শুরু করে সিগন্যাল প্রসেসিং, কম্যুনিকেশন সিস্টেমে  কাজ করতে পারেন।
প্রকৃতপক্ষে একজন ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার একজন মাল্টিটাস্কার – ক্রমাগত  ডিটেইল মডেল তৈরি করা, তাদের বাস্তবায়ন, পরীক্ষা করা এবং এমনকি সবকিছু ঠিকঠাক চলছে কিনা তা নিশ্চিত করতে হয় তাদের। সুতরাং যদি আপনার টেকনিক্যাল বিশদের ক্ষেত্রে আগ্রহ থাকে এবং কাজ করতে আপনি পছন্দ করেন তবে  ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এর জন্য আপনি উপযুক্ত।

🌼ডিপ্লোমা ইন ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারদের কর্মক্ষেত্র:
• বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান যেমন-  PDB, DESCO, BWBD, পল্লী বিদ্যুৎ,  শক্তি উৎপাদন কেন্দ্র, বিভিন্ন সরকারি মিল এবং ফ্যাক্টরি, Operation and Circuit Oriented কোম্পাণীগুলোতে।
• অ্যাসিস্ট্যান্ট বা সাব অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে সৌরবিদ্যুৎ কোম্পানি, হাউজিং কোম্পানি, Circuit-Oriented কোম্পানি, প্রাইভেট  পাওয়ার প্রোডাকশন কোম্পানি, ইলেকট্রিক্যাল এবং ইলেক্ট্রনিক সামগ্রীর প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে।
• ইন্সট্রাকটর হিসেবে সরকারি এবং বেসরকারি পলিটেকনিক কলেজগুলোতে।
• শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে।
• মোবাইলফোন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে।
• দেশের বাইরে সুপারভাইজার অথবা হেড ইলেক্ট্রিশিয়ান হিসেবেও কাজের সুযোগ আছে।

🌼কেমন হতে পারে একজন ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারের আয়:

ডিপ্লোমা শেষে একজন ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার ২য় শ্রেণির গ্যাজেটেড কর্মকর্তা হিসেবে তিতাস, ডেসকোর মত সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে যোগ দিলে তার আয় হতে পারে ৩০,০০০-৫০,০০০ টাকা। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে এন্ট্রি লেভেলে আয় শুরু হয় ১৫-২০ হাজার টাকা থেকে। তবে বিভিন্ন কোম্পানি ভেদে আয় কম বেশি হয়।
আর যাদের অভিজ্ঞতা এবং বিশেষ প্রশিক্ষণ আছে সেই সব ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারদের আয় বেসরকারি খাতে এবং কন্সালটেন্সিতে বেশ ভালো হয়ে থাকে।

🌼কোথায় করবেন ডিপ্লোমা ইন ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং:

সারা দেশ জুড়ে ৪৯ টি  সরকারি প্রতিষ্ঠানে সুযোগ রয়েছে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং –এ ডিপ্লোমা করার। তাছাড়া ড্যাফোডিল পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট সহ আরও কিছু বেসরকারি প্রতিষ্ঠানেও ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এ ডিপ্লোমা করার সুযোগ রয়েছে।

🌼ভর্তির যোগ্যতা:
চার বছর মেয়াদি আট সেমিস্টারের এই কোর্সে এস এস সি পরীক্ষায় জিপিএ এবং এইচএসসি পরীক্ষার পাসকৃত শিক্ষার্থীরা সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে পারবে তবে এক্ষেত্রে পলিটেকনিকের ভর্তি নীতিমালা দেখে নিতে হবে। প্রতি বছর নীতিমালা পরিবর্তন আসতে পারে।
এইচএসসি (বিজ্ঞান) শিক্ষার্থীরা সরাসরি ৩য় সেমিস্টারে ভর্তি হতে পারবে এবং এইচএসসি( ভোকেশনাল) শিক্ষার্থীরা সরাসরি চতুর্থ সেমিস্টারে ভর্তি হতে পারবে তবে এক্ষেত্রে নীতিমালা লক্ষ্য করতে হবে। নীতিমালা পরিবর্তন হলে এরকম নাও হতে পারে।

🌼উচ্চতর শিক্ষার সুযোগ:
একজন ইলেকট্রিক ইঞ্জিনিয়ার  ডিপ্লোমা কোর্সের পর EEE  টেকনোলজিতে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করতে পারেন। এজন্য DUET (Dhaka University of Engineering & Technology), SUST (সিলেট), JUST(যশোর), RSTU (রাজশাহী) এর মত বেশ কিছু সরকারি এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে এই সুযোগ  রয়েছে। এছাড়া AMIE (Associate Member of the Institution of Engineers) ডিগ্রীসহ বিদেশে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের সুযোগও তাদের রয়েছে।


🌼জেনারেল এডুকেশন সিস্টেম ছেড়ে কেন ডিপ্লোমা ইন ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ?
ভবিষ্যতে গতানুগতিক গ্রাজুয়েশন করতে অনিচ্ছুক এমন শিক্ষার্থীদের জন্য এই কোর্সটি আকর্ষনীয়। আর্থিকভাবে কম শক্তিশালী কিন্তু ইঞ্জিনিয়ারিং এ পড়তে ইচ্ছুক ছাত্রদের জন্যও একটি সম্ভাবনাময় পথ এবং এই ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সের মাধ্যমে তাদের ক্যারিয়ার উজ্জ্বল সম্ভাবনায় এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে।

সম্প্রতি চাকরির বিজ্ঞপ্তিগুলো খেয়াল করলে দেখা যায় যে, ডিপ্লোমা এবং স্নাতক শিক্ষার্থীদের মধ্যে চাকরির বাজারে যোগ্যতার তেমন পার্থক্য নেই।
যেখানে বিবিএ, অনার্সের শিক্ষার্থীরা ভাল ভার্সিটিতে পড়েও বেকার, সেখানে ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং এর চাকরির ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা অনেক কম কিন্তু সুযোগ অনেক বেশি।
তবে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এ ডিপ্লোমা করার পর উচ্চতর শিক্ষা না চাকরি কোনটি বেছে নিবেন সেটা অবশ্যই আলোচনা করে ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। যদি ভাল সুযোগ সুবিধাসহ কোন চাকরির সম্ভাবনা না থাকে তবে ভবিষ্যতের উজ্জ্বল ক্যারিয়ারের জন্য উচ্চতর শিক্ষা এবং প্রশিক্ষনই শ্রেয়। 
প্রায়শই বলা হয়, “ইলেকট্রিক্যাল টেকনোলজি সকল শিল্পের মাতা”, অর্থ হল বৈদ্যুতিক প্রযুক্তি সব শিল্প কারখানার প্রধান চালিকাশক্তি। আমাদের দেশে বিদ্যুতের উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন শিল্প কারখানা চালু হচ্ছে যার ফলে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের  চাহিদা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। তরুণ প্রজন্মের দক্ষ প্রকৌশলীদের চাহিদা পূরণের একটি সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র এটি। সবশেষে বলা যায়, যদি ইঞ্জিনিয়ারিং এবং ইলেক্ট্রনিক্স এর ব্যাপারে যথেষ্ঠ আগ্রহ থেকে থাকে, তবে ডিপ্লোমা ইন ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সটি আপনার জন্য অন্যতম সম্ভাবনার দ্বার।

তথ্যসূত্রঃ mahbubmahin.blogspot.com এ প্রকাশিত। 


শেয়ার করুন

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: